*** করোনায় আতঙ্ক নয়, সচেতন হউন। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন, সুস্থ থাকুন। ***

শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

কাঁদতে আসিনি ফাঁস্যার দাবি নিয়ে এসেছি [অংশবিশেষ] - মাহবুব উল আলম চৌধুরী


রমনার মাঠের সেই মাটিতে 
কৃষ্ণচূড়ার অসংখ্য ঝরা পাপড়ির মতো
চল্লিশটি তাজা প্রাণ আর 
অঙ্কুরিত বীজের খোসার মধ্যে
আমি দেখতে পাচ্ছি তাদের অসংখ্য বুকের রক্ত...
রামেশ্বর, আব্দুস সালামের কচি বুকের রক্ত
বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সেরা কোনো
                        ছেলের বুকের রক্ত
আমি দেখতে পাচ্ছি তাদের প্রতিটি রক্তকণা রমনার সবুজ ঘাসের উপর 
আগুনের মতো জ্বলছে ,জ্বলছে আর জ্বলছে এক একটি হীরের টুকরোর মতো
ওদের কারো নাম তোমারই মতো 'ওসমানী' 
কারো বাবা তোমারই বাবার মতো 
হয়তো কেরানী,  কিম্বা পূর্ব বাংলার 
নিভৃত কোন গাঁয়ে কারো বাবা
মাটির বুক থেকে সোনা ফলায়
হয়তো কারো বাবা কোনো
               সরকারি চাকুরে।
তোমারই আমারই মতো,
যারা হয়তো আজকে বেঁচে থাকতে পারতো
আমারই মতো তাদের কোনো একজনের
হয়তো বিয়ের দিন পর্যন্ত ধার্য হয়েছিল
তোমারই মতো তাদের কেউ একজন হয়তো
মায়ের সদ্যপ্রাপ্ত চিঠিখানা এসে পড়বার আশায়
টেবিলে রেখে মিছিলে যোগ দিতে গিয়েছিল...

এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে
রমনার উর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়
যেখানে আগুনের ফুলকির মতো
এখানে ওখানে জ্বলছে অসংখ্য রক্তের ছাপ 
সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি।
আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।
যে শিশু আর কোনোদিন তার 
পিতার কোলে  ঝাঁপিয়ে পড়ার 
                        সুযোগ পাবে না
যে গৃহবধূ আর কোনোদিন তার
স্বামীর প্রতীক্ষায় আঁচলে প্রদীপ
ঢেকে দুয়ারে খোকা এসেছে বলে
উদ্দাম আনন্দে সন্তানকে আর
বুকে জড়িয়ে ধরতে পারবে না
যে তরুণ মাটির কোলে লুটিয়ে
পড়ার আগে বার বার একটি
প্রিয়তমার ছবি চোখে আনতে
                       চেষ্টা করেছিল
সেই অসংখ্য ভাইবোনদের নামে
 আমার হাজার বছরের ঐতিহ্যে ললিত
যে ভাষায় আমি মাকে সম্বোধনে অভ্যস্ত
সেই ভাষা ও স্বদেশের নামে
এখানে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
আমি তাদের ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি 
যারা আমার অসংখ্য ভাইবোনকে
 নির্বিচারে হত্যা করেছে।                                                

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন